নতুন স্বপ্ন আর অজানা আশঙ্কা নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে পা রাখলেন নবদম্পতি। নতুন জীবনের স্বপ্ন, অজানা চ্যালেঞ্জের ভয়। কারণ বিয়ে মানে শুধু দুই নারী-পুরুষের বৈবাহিক জীবন নয়, এটি দুটি ভিন্ন পরিবারের সমন্বয়, তাদের সংস্কৃতিও। এছাড়া নতুন পরিবেশ ও মানুষের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর বিষয়টি তো আছেই। আমাদের সমাজে অনেক কারণেই মেয়েদের জন্য বিয়ে খুবই চ্যালেঞ্জিং। শ্বশুরবাড়ি কনের জন্য একেবারে নতুন অভিজ্ঞতা। শুধু ভালো শিক্ষাই নয়, তার সতর্কতা ও নিষ্ঠাও সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। নতুন বউকে নতুন পরিবেশে অভ্যস্ত করাতে শ্বশুরবাড়ির ভূমিকাই বেশি। এ জন্য প্রথমে তার প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া জরুরি।
পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা শুরুতে শুরবাড়ির পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা দিন
নতুন বউ। কার কী অভ্যাস আছে, কে কী পছন্দ করে তা বিশেষভাবে ব্যাখ্যা করুন। এ সময় শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের কাছে তার পছন্দ-অপছন্দের কথা জানা জরুরি। এতে ভবিষ্যতে কোনো অপ্রয়োজনীয় জটিলতা সৃষ্টি হবে না। একই সঙ্গে তাকে পরিবারের ছোট সদস্যদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিন। এই সময়ে নববধূকে তার সর্বোত্তম দেখতে হবে, কারণ উত্তরসূরি অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে বেশি।
অভ্যাস ত্যাগ করুন
মানুষ বিভিন্ন পরিবেশে বিভিন্ন অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। বিয়ের পর একটা মেয়ের দীর্ঘদিনের অভ্যাসগত জীবন হঠাৎ বদলে যায়। যে মানুষটা অনেকদিন ধরে নিজের ঘরে বড় হয়েছে তার হঠাৎ করেই নতুন বাড়িতে অভ্যস্ত হতে একটু সময় লাগবে। বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে প্রাক-বৈবাহিক জীবন এবং পরবর্তী জীবনের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। এই সময়ে নববধূকে তার সর্বোত্তম দেখতে হবে, কারণ উত্তরসূরি অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে বেশি। বিশেষ করে তাকে ঘুম থেকে উঠতে, ঘুমাতে, রান্না করতে সময় দিন। যত সময় যাবে নতুন বউ নতুন বাড়িতে মানিয়ে নেবে। মনে রাখবেন, একটি সুখী দাম্পত্য জীবন নির্ভর করে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সাহায্য এবং কনের নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতার ওপর।
তাকে ভাবুন
পরিবারের সদস্য হিসেবে। নতুন বউকে শুধু স্ত্রী হিসেবে নয়, পরিবারের সদস্য হিসেবে দেখুন। ভুলে যাবেন না সেই মানুষটিকে যে তার বাড়ি, বাবা-মা, ভাই-বোন ছেড়ে চলে গেছে। বিয়ের পর থেকে সে এখন তোমার আত্মীয়, সুখ-দুঃখের সঙ্গী। তার প্রতি একই মনোভাব প্রকাশ করুন।
ভুল করলে সংশোধন করুন।
কোনো মানুষই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। নতুন বাড়িতে অভ্যস্ত হতে এবং শ্বশুরবাড়ির মন জয় করতে নতুন স্ত্রীর কথায় ও কাজে ভুল করাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। শুধু তার ভুলগুলো দেখুন। আন্তরিকতার সাথে ঠিক করুন। নববধূকে নিজের মেয়ে হিসেবে দেখুন, শাশুড়ি হিসেবে নয়। কোন কাজ করতে না পারলে শেখান।
শুরুতেই কনের ঘাড়ে কাজের বোঝা চাপিয়ে দেবেন না। সে আগে শ্বশুরবাড়ির লোকদের সাথে পরিচিত হতে দাও। অস্ত্রোপচার. তার ওপর কোনো কাজ চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। নতুন বউ কাজ করতে চাইলে তাকে সকালের চা বানানো, বিকেলের নাস্তা, ঘর গোছানো, বাগান পরিচর্যার মতো ছোটখাটো কাজ দেওয়া যেতে পারে। এই ছোট কাজগুলো থেকে একদিন সে নিজেই বড় কাজের দায়িত্ব নেবে। এই কাজগুলো করার সময় তার সাথে সহযোগিতা করুন।
তিনি জানতে চান যে তিনি এটি পছন্দ করেন বা
অপছন্দ করেন। এ সময় তাকে সঙ্গ দেন। চা খাওয়ার সময় তাকে সাথে নিয়ে যান। তাকে ভালভাবে জিজ্ঞাসা করুন যদি সে আর সংযোগে শোষিত না হয়। তার মতামত জানতে চাই। এতে সে ভাবতে শিখবে যে সে এই পরিবারের একজন। তার মধ্যে দায়িত্ববোধ ও অনুরাগ সৃষ্টি হবে। নতুন বাড়িতে তার কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা জানতে চান। পাত্রীর ভালো-মন্দকে প্রাধান্য দিন।
নববধূর কাজের প্রশংসা করতে কনেকে উৎসাহিত করুন
তা রান্না বা অন্য কিছু। তাকে উৎসাহিত করুন। মানিয়ে নেওয়ার জন্য তার প্রচেষ্টার প্রশংসা করুন। সে আরও ভালো করার চেষ্টা করবে। নতুন বউয়ের বাড়ি থেকে তার বাবা-মা বা আত্মীয়স্বজন এলে তাদের সামনে তার সমালোচনা করবেন না, বরং তার প্রশংসা করুন। এতে তিনিও উৎসাহিত হবেন।
স্বামীর দায়িত্বশীল আচরণে
শ্বশুরবাড়িতে বধূর কাছের মানুষটি কিন্তু আপনি। তার নিকটাত্মীয়রাও। এর জন্য স্বামীর অতিরিক্ত দায়িত্ব রয়েছে। আপনাকে নতুন স্ত্রীর সুবিধা-অসুবিধার দিকে বেশি নজর দিতে হবে। তিনি তার সুবিধা-অসুবিধা সম্পর্কে অন্যদের মতো সহজে বলতে পারেন। যেকোনো সমস্যায় তার পাশে দাঁড়ান। স্ত্রীকে নতুন বাড়িতে অভ্যস্ত করা এবং সবার সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তুলতে স্বামীকে বলিষ্ঠ ও কৌশলী ভূমিকা পালন করতে হবে। আর স্ত্রী যদি চাকরি করেন, তাহলে আপনাকে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। তার কাজের গুরুত্ব এবং কর্মক্ষেত্রে তার কর্তব্য তার নিজ বাড়ির লোকজনকে বোঝাতে হবে। সকালে অফিসে যাওয়ার আগে আপনি আপনার স্ত্রীকে কয়েকটি কাজে সাহায্য করতে পারেন। যা স্ত্রীকে মানসিকভাবেও ভালো রাখবে।